দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ
নতুন সরকারের পথচলা শুরু হয়েছে বহুমাত্রিক প্রত্যাশা আর বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ও স্পর্শকাতর ইস্যু হলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। বাজারের অস্থিরতা সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রাকে যে পর্যায়ে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, তাতে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সরকারের জন্য শুধু অর্থনৈতিক দায়িত্ব নয়—এটি নৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারও।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণে রমজানকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের প্রতি অতিরিক্ত মুনাফা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বাজারে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছেন, জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য রাখাই সরকারের অগ্রাধিকার। কিন্তু বাস্তবতা হলো—শুধু আহ্বান বা প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ—সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, আমদানি নির্ভরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং বাজার তদারকির ঘাটতি। বিশেষ করে রমজান এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। এই চক্র ভাঙতে হলে বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
একই সঙ্গে কৃষি ও উৎপাদন খাতে প্রণোদনা বাড়ানো, ন্যায্যমূল্যে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ, সরকারি বিপণন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কেবল প্রশাসনিক অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সংস্কার ছাড়া বাজারে স্থিতি ফিরবে না।
নতুন সরকার দুর্নীতি দমন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। যদি সেই অঙ্গীকার বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, তবে বাজারের সিন্ডিকেট সংস্কৃতিও ভাঙা সম্ভব। তবে এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সামাজিক সহযোগিতা—তিনটির সমন্বয় অপরিহার্য।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ব্যর্থতা শুধু অর্থনৈতিক সংকট বাড়াবে না, জনআস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আবার সফলতা নতুন সরকারের প্রতি মানুষের বিশ্বাসকে দৃঢ় করবে। তাই এখন প্রয়োজন দ্রুত, দৃশ্যমান ও টেকসই পদক্ষেপ। জনগণ অপেক্ষা করছে—বাজারে স্বস্তি ফিরুক, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হোক নাগালের মধ্যে, এবং প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাক বাস্তব জীবনে।
নতুন সরকারের সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সাফল্য দেখানো। এই চ্যালেঞ্জ উত্তীর্ণ হওয়াই হবে তাদের শাসনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

