ভয় নয়, দায়িত্ববোধ নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার।
ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ক গণভোটকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারিত এ ভাষণে তিনি দেশবাসীকে ভয়কে পেছনে রেখে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
ভাষণের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সুযোগের মাধ্যমে দেশ আবারও গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। জনগণের বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব হতো না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচন কেবল একটি নিয়মিত নির্বাচন নয়; এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। একই সঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছে জনগণ। এই নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এবং স্বতন্ত্রসহ প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি, যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনী প্রচারণা তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু সহিংস ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, গণতন্ত্রের চর্চায় সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
ভাষণে তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষভাবে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকা এই প্রজন্মের জন্য এবারের ভোট একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। নারীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব গণআন্দোলনে নারীরা অগ্রভাগে ছিলেন এবং রাষ্ট্র গঠনে তাদের মতামত অপরিহার্য।
নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ড. ইউনূস জানান, ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ক্যাম, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়াকেও তিনি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গুজব ও অপপ্রচার সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি নির্বাচন বন্ধু হটলাইন ৩৩৩-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
ভাষণের শেষাংশে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, নির্বাচন শেষে নির্বাচিত সরকারের কাছে যথাসময়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সপরিবারে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করতে হবে।

